
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ হতাশ। অপরদিকে এক-তৃতীয়াংশের বেশি নাগরিক এখনও আশার আলো দেখছেন। কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগ অনুকূল নয় বলে মনে করেন ৮৩ শতাংশ মানুষ, আর ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিস্থিতিকে অনুপযোগী মনে করেন ৭৭ শতাংশ।
প্রথম আলোর উদ্যোগে পরিচালিত ‘গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক-রাজনৈতিক বিষয়ে জাতীয় জনমত জরিপ ২০২৫’-এ এসব পাওয়া গেছে। জরিপটি সম্পন্ন করেছে কিমেকারস কনসাল্টিং লিমিটেড।
জরিপে বাংলাদেশের আর্থিক ও সামাজিক উন্নতির সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে হতাশ হয়েছেন ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশ উত্তরদাতা এবং খুবই হতাশ ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। মোট হতাশার হার দাঁড়ায় প্রায় ৪৬ শতাংশ। বিপরীতে কিছুটা আশাবাদী ৩১ দশমিক ৪ শতাংশ ও অত্যন্ত আশাবাদী ৩ দশমিক ৯ শতাংশ—মোট ৩৫ শতাংশ। আর ১৯ শতাংশ কোনো পক্ষেই অবস্থান নেননি।
জরিপের তথ্য বলছে, উন্নয়ন নিয়ে নারীরা বেশি আশাবাদী। তরুণদের মধ্যেও আশাবাদ বয়স্কদের তুলনায় বেশি।
পাঁচটি নগর ও পাঁচটি গ্রাম/আধা-শহরাঞ্চলের ১৮–৫৫ বছর বয়সী ১,৩৪২ জনের মতামত নেওয়া হয় জরিপে। তাঁরা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও আয়ের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন। তথ্য সংগ্রহ হয়েছে ২১ থেকে ২৮ অক্টোবর। গবেষকদের মতে, জরিপটি জাতীয় প্রেক্ষাপট তুলে ধরে, তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করে না। এর নির্ভরযোগ্যতার মাত্রা ৯৯ শতাংশ।
কর্মসংস্থান ও আয়-উপার্জন প্রসঙ্গে ৮৩ শতাংশ মনে করেন পরিস্থিতি প্রতিকূল। মাত্র ৫ শতাংশ মনে করেন সুযোগ অনুকূল। নারী–পুরুষ উভয়ের মধ্যেই কর্মসংস্থানের প্রতিকূলতার ধারণা প্রায় সমান। নিম্ন আয়ের মানুষ উচ্চ আয়ের মানুষের তুলনায় পরিস্থিতিকে বেশি প্রতিকূল হিসেবে দেখছেন।
ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়েও আশাবাদ কম। ৭৭ শতাংশের মতে এখন ব্যবসা করার পরিবেশ অনুকূল নয়, আর ২০ শতাংশ মনে করেন পরিস্থিতি অনুকূল।
সহিষ্ণুতা ও দুর্নীতিহ্রাস নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
নির্বাচিত সরকার ভিন্ন রাজনৈতিক মতের প্রতি সহিষ্ণু হবে কি না—এ প্রশ্নে আশাবাদী ৫৪ শতাংশ। হতাশ প্রায় ২৪ শতাংশ, আর ২২ শতাংশ কোনও পক্ষেই নেই।
সরকার দলীয়করণ, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি থেকে বেরিয়ে আসবে—এ বিষয়ে আশাবাদী ৫২ শতাংশ। হতাশ সাড়ে ২৭ শতাংশ, এবং ২০ শতাংশ নিরপেক্ষ। নারীরা ও তরুণরা এই বিষয়ে তুলনামূলক বেশি আশাবাদী।